Home||Contact Us
Latest News :

পাতা সমূহ

 

May 2013
S M T W T F S
« Apr    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  

সংবিধান নিয়ে কথা বলে ফাঁসিতে ঝুলতেও রাজি- ড. কামাল

ঢাকা: সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধানে জনগণের ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অতি সম্প্রতি সংসদে সংবিধানে কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। আর এতে জনগণের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এমনকি বর্তমান সংবিধানের বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে দেশদ্রোহী বলে বিবেচনা করা হবে। জনগণ ভোট দিয়ে আপনাদের (জনপ্রতিনিধিদের)নির্বাচিত করেছে জনগণের ক্ষমতা খর্ব করতে নয়।

 

শনিবার রাজধানীর নীলক্ষেতে উন্নয়ন ও পরিকল্পনা একাডেমি মিলনায়তনে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি একথা বলেন।

 

তাজউদ্দীন আহমদের ‘সমাজ ও রাষ্ট্রভাবনা’ এবং ‘আলোকভাবনা’ শিরোনামে বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আনিসুজ্জমান।

 

এতে আলোচনায় অংশ নেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম, ড. এম এম আকাশ ও ড. কেএএস মোর্শেদ।

 

বইটি প্রকাশ করেছেন তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা সিমিন হোসেন রিমি।

 

ড. কামাল হোসেন বলেন, ’১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পরদিনই পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্ট্রো বলেছিলেন বাংলাদেশ এখন ইসলামিক রাষ্ট্র হবে। আর এতদিন পর ৩০ জুন সংবিধান সংশোধন করে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হলো। ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা নিয়ে ১৯৮৮ সালে হাইকোর্টে রিট হয়েছিল। ৮/১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ের ওপর শুনানি আসছে।’

 

ড.কামাল বলেন, ’বঙ্গবন্ধু যদি এদেশের স্থপতি হন তাহলে তাজউদ্দীন আহমদ হলেন সেই স্থাপত্যের প্রকৌশলী। আজ জাহাজের ক্যাপ্টেন ও নেভিগেটর হারিয়ে আমরা এতিম রাষ্ট্র হয়ে হাবুডুবু খাচ্ছি।’

 

বিচারপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ’দেশের সংবিধান থেকে সমাজতন্ত্র ছুড়ে ফেলা হয়েছে, এরপর ধর্মনিরপেক্ষতা ছুড়ে ফেলা হয়েছে। আমরা এখন ছুড়ে ফেলার প্রতিযোগিতায় আছি।’

 

তিনি বলেন, ’এখনকার বাজেট জুড়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের কথা বলা হয়। কিন্তু তাজউদ্দীন আহমদের বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের কথা বলা হয়নি।’ তিনি বলেন, ’আমরা এখনো স্থানীয় সরকার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত করতে না পারিনি, অথচ গাড়ি কেনার প্রতিযোগিতায় নেমেছি।’

 

অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম রাখা হলে তা দেশকে বিভক্ত করবে। একদিকে সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখা হয়েছে, অন্যদিকে ধর্মনিরপেক্ষতাও রেখেছি। এটা এক ধরনের প্রবঞ্চনা।’

তাজউদ্দীন আহমদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তার চরিত্রে কোনো দূর্বলতা ছিল না। এজন্যই রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি সাফল্যের চূড়ায় যেতে পেরেছিলেন।’

 

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘তাজউদ্দীন আহমদের মতো শান্ত ও ঠা-ার মাথা মানুষ জাতির জন্য খুবই প্রয়োজন।’

 

ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এদেশে তাজউদ্দীন আহমদের সফলতাগুলোকে ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।’ তিনি তাজউদ্দীন আহমদের এই বই দুটি রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ও স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানান।

 

ড. এম এম আকাশ বলেন, ‘একটি বিপ্লব ও সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে প্রতিবিপ্লবের মাধ্যমে দেশে ১৮০ ডিগ্রি পিছনে চলে যায়। এই ঘটনা দুটি থেকে শিক্ষা নিতে না পারলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উদ্ধার করা যাবে না।’

 

তিনি বলেন, ‘১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু তার মন্ত্রিসভা থেকে তাজ উদ্দীন আহমদকে বাদ দিলেন অথচ মোশতাককে রাখলেন। এটাই ট্রাজেডি। শত্রুরা বুঝতে পেরেছিল বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীন আহমদকে আলাদা করতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীরা এই কাজটি সফলভাবে করেছিলেন।’

 

ড. কেএএস মোর্শেদ বলেন, ‘প্রথাগত সমাজতন্ত্র নয়, আমাদের মতো করে সমাজতন্ত্র কায়েম করতে চেয়েছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। তার এই বই দুটি ছাত্র-শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য মূল্যবান ডকুমেন্ট হিসেবে কাজে লাগবে।’

NEWS LINKS



































sample advertisement