| ও সরকারের ব্যর্থতার ফসল বলে উল্লেখ করেছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল। আজ শনিবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। �সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ মানুষের নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতায় আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) উদ্বেগ� শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি। সুলতানা কামাল বলেন, আমিনবাজারে গণপিটুনিতে ছয়জন ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনা জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। ডাকাত সন্দেহে এই ছয় তরুণকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা একটি সভ্য দেশের মানবিক মূল্যবোধকে চরমভাবে পদদলিত করেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ জনগণের অনাস্থা ও সরকারের ব্যর্থতার ফসল। সাধারণ মানুষও সন্দেহের বশে নির্বিকারভাবে মানুষ মেরে ফেলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি, এ অযুহাতে পুলিশ দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। অথচ কোনো অপরাধের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য। সংবাদ সম্মেলনে আসকের পক্ষ থেকে বিচার বর্হিভূত হত্যা নিয়ে এক এক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে গণপিটুনিতে মোট ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৪৩ জন, চট্টগ্রামে ২৫ জন, রাজশাহীতে এক জন, খুলনায় পাঁচ জন, বরিশালে পাঁচ জন, সিলেটে দুই জন এবং রংপুরে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্দুকযুদ্ধে ৩১ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ৬১ জনের। যার মধ্যে র্যাবের হাতে ১৯ জন, পুলিশের হাতে সাত জন, র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তিন জন এবং র্যাব ও কোস্টগার্ডের অভিযানে দুই জন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এছাড়াও সালিশ ও ফতোয়ার মাধ্যমে মোট ২১টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ায় আসকের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং গণতন্ত্রের চর্চা সমুন্নত রাখা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নাগরিক ও মানবাধিকার নিশ্চিত রাখতে সরকারের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়- সে ব্যাপারে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান এবং ব্যতয় ঘটলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন-২০০৯ এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের দিক নির্দেশনা প্রদান। সালিশের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান শাস্তিমূলক অপরাধ- এ বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরিতে পুলিশ প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাকে নির্দেশনা প্রদান এবং এ বিষয়ে টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা। |