আ’লীগের বর্তমান কমিটির গত দুই বছরে সাংগঠনিক তৎপরতা মন্থর
ঢাকা: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের পর রোববার দুই বছর পার করল। এই দুই বছরে দলে সাংগঠনিক কার্যক্রমের গতি ছিল মন্থর। অধিকাংশ সময়ই দলীয় তৎপরতা ছিল স্থবির। কিছু সাংগঠনিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও মাঝপথে সেগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে। তিন বছরের মেয়াদের কমিটির মেয়াদ আর মাত্র এক বছর বাকি রয়েছে। তবে দুই বছরের মাথায় এসে সংগঠন গোছাতে নতুন করে কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামা হচ্ছে। ২৬ জুলাই থেকে জেলা সফরের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের পর গত দুই বছরে দলের নতুন সদস্য সংগ্রহ ও সদস্য পদ নবায়ন, দলের পৌর, উপজেলা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও জেলা সম্মেলন শেষ করা, দলের প্রতিটি বিভাগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যালয় স্থাপন, সাংগঠনিক সফরসহ যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেসবের কোনোটিই পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি । এই সময়ে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা নিয়মিত হয়েছে। এর বাইরে ঢাকায় দিবস কর্মসূচিগুলো নিয়মিতভাবে পালিত হয়েছে। এর বাইরে দলটি বড় কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা চালাতে পারেনি। সম্মেলনের পর জেলা সফর কর্মসূচি শুরু করে মাঝপথে থেমে যায়। সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচিও কিছু দিন চলার পর এক পর্যায়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। দুই বছরে এখন পর্যন্ত ওয়ার্ড সম্মেলন শুরু হয়নি। দলের ৭৩ টি সাংগঠনিক জেলার অধিকাংশ জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ। উপরন্তু এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ১১টি জেলায় সম্মেলন হচ্ছে না। গত বছর ১৮ মার্চ কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলা সফর কর্মসূচি হয়। ৫০টি জেলা সফরের পর কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতে নেতারা সফর করতে পারেননি। দুই বছর আগে শুরু হওয়া দলের সদস্য পদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিও তেমন এগোয়নি। দলের ঢাকা মহানগর শাখার এখন পর্যন্ত এ কর্মসূচি শুরুই করতে পারেনি। শুধু সাংগঠনিক নয় জোটগতভাবেও পিছিয়ে পড়েছে ক্ষমতাসিন এ দলটি। নিয়মিত বৈঠক না হওয়া জোটের মধ্যেও টানাপড়েন চলছে। সম্মেলনের পর দুই বছরে বর্তমান কমিটি ১৪ দলের সঙ্গে চার/পাঁচটি বৈঠক করেছেন। গত ৬ ফেব্রুয়ারির পর ১৪ দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আর কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। সর্বশেষ এ বৈঠকে জেলায় জেলায় জোটের কার্যক্রম শুরু করাসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বাংলানিউজকে বলেন, ‘গত সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দলে তরুণ নেতৃত্ব আসে। এই নেতৃত্ব জেলাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার চেষ্টা করেছে। বড় ধরনের কোনো সাংগঠনিক সফলতা দৃশ্যমান না হলেও চেষ্টা হয়েছে।’ তাছাড় সব সময়ই দেখা যায় ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রেই কম থাকে। বিরোধী দলে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকার পর ক্ষমতায় এসে নেতাকর্মীদের কিছুটা হলেও সাংগঠনিক কাজের গতি কমে যায়। সার্বিক মূল্যায়নে সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে না এটা বলা যায় না।