স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাবনত জনতার ঢল
ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর: মহান বিজয়ের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতি আজ কৃতজ্ঞ চিত্তে, সশ্রদ্ধ বেদনায় স্মরণ করছে দেশের জন্য প্রাণ উত্সর্গ করা বীর শহীদদের। আর তাই আপামর জনতার ঢল নেমেছে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে। কেউ এসেছেন দল বেঁধে, কেউবা একা একা। সবার হাতেই ফুল। কারো হাতে পুষ্পস্তবক, কারো ফুলের তোড়া আবার কারো হতে একটি-দু’টি ফুল। বিজয়ের আনন্দের চেয়ে স্বজন হারানোর বেদনাই ফুটে উঠেছে সবার চোখে-মুখে। শ্রদ্ধাবনত হয়ে সৌধের বেদিতে বিছিয়ে দিয়েছেন ফুলের বিছানা।
দিনের প্রথম প্রহরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে সূচনা হয় দিবসটির। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ছয়টায় সাভারে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াও। এর পরপরই শুরু হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো। জড়ো হয়েছেন বিভিন্ন বয়সের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোর প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ সাজানো হয়েছে জাতীয় পতাকায়। হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানাগুলোতে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সংবাদপত্র বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। বেতার ও টিভি চ্যানেলগুলোতে সম্প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
’৫২-র ভাষা আন্দোলনের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের শোষণের শিকার বাঙালিরা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে কাঁপাতে থাকেন দেশ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী সেনারা ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মেতে ওঠে বিশ্বের ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যায়। আর এর মাধ্যমেই মুক্তির যুদ্ধে নামে বাংলার বীর সন্তানরা। মার্চ থেকে ডিসেম্বর- নয় মাসের সংগ্রাম। এরপর আজকের এ দিনে সেই হানাদারদের আত্মসমর্পণ। আর এরই মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে নতুন করে আঁকা হলো একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের সীমারেখা। ৩০ লাখ শহীদ আর অসংখ্য মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে জন্ম নেয়া সেই দেশটি আমাদের মাতৃভূমি ‘বাংলাদেশ’।