গুম খুনের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী
বাংলাদেশে কাছাকাছি সময়ে অপহরণের পর গুম ও হত্যার বিষয়টি বেশ বড় আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। গত ২৮ ঘণ্টায় বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির যশোর জেলার একজন নেতা নাজমুল ইসলামসহ মোট চার ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশের বিশেষ বাহিনী র্যাব বলছে, গত নয় দিনে মোট আটটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন এবং মৃতদের পরিবারের অনেকের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে। এসব হত্যার পেছনে তাদের হাত থাকতে পারে বলে তারা বলছেন। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান অপহরণের পর গুম ও হত্যার এই ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নতুন কৌশল বলে সন্দেহ করছেন।
আগে যে বিচার বহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটতো ইদানীং তা কমে গেলেও এটা তারই একটি পরিবর্তিত রূপ বলে তিনি মত দেন। মি. খান জানান, ঘটনার পর মৃত ব্যক্তির পরিবারের সাথে কথা বলে তারা এধরনের অভিযোগ পেয়েছেন।
গত ২৮ নভেম্বর ছাত্রদলের আরও দুজন নেতার অপহরণের অভিযোগ ওঠে। এর ক’দিন পর তাদের মৃতদেহ উদ্ধার হয়।অধিকার বলছে, চলতি বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত এ ধরনের হত্যা ঘটেছে ২২টি। গত বছর এসংখ্যা ছিল ১৮টি।
ডিসেম্বরে হঠাৎ করেই এধরনের ঘটনা বেড়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করছে।
পুলিশের বিশেষ বাহিনী র্যাব-এর পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, অপরাধী চক্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম ব্যবহার করে এধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে।
র্যাবের কমান্ডার এম সোহায়েল বলেন, “মৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর দোষ চাপানোর বিষয়টি সঠিক নয়।”
তিনি জানান, এসব হত্যাকাণ্ড কারা ঘটাচ্ছেন, তা তদন্ত করতে র্যাবের একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে।
এদিকে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছে, এধরনের গুম ও খুনের পেছনে সরকারের হাত রয়েছে। বিষয়টি রাজনৈতিক বলেও দলটি অভিযোগ করেছে।
যশোর জেলার নেতা নাজমুল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদে ওই জেলায় ১৭ ডিসেম্বর হরতাল ঘোষণা করেছে স্থানীয় বিএনপি। সূত্র: বিবিসি।